Freethought

মুক্তচিন্তা মানেই নাস্তিক্যবাদ নয়

“মুক্তচিন্তা” শব্দখানি আজ বেশ পরিচিত। কিন্তু শব্দটির খ্যাতির চেয়ে অখ্যাতি বেশি। শব্দটা এক অর্থে সর্বস্ব হারিয়েছে। একপক্ষ শব্দটাকে সহ্যই করতে পারেনা ; অন্যপক্ষ নিজেদের কর্মকাণ্ডকেই “মুক্তচিন্তার “লেভেল পরিয়ে দেন, তা সে শুদ্ধ হোক আর অশুদ্ধই হোক। ফলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি বিরাজ করছে আমাদের সমাজে, যা একদমই শুভ লক্ষণ নয়। এতে আমাদের জ্ঞানগত ক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে ষোল আনা। “মুক্তচিন্তা ” শব্দটি ” মুক্ত” ও ” চিন্তা” দুটি শব্দ যুক্ত হয়ে তৈরি হয়েছে। “মুক্ত” শব্দের অর্থ উদার, মোহহীন, খোলা। আবার ” চিন্তা” শব্দের অর্থ মনন, বোধ, জ্ঞান। এবার শব্দদুটি যেভাবে যুক্ত করেছি তেমনি অর্থগুলো যুক্ত করি। পেয়ে যাব মুক্তচিন্তার সংজ্ঞার্থ। আমরা সংজ্ঞার্থ কয়েক রকমভাবে লিখতে পারি।

যথা:
১) উদারভাবে, মোহহীনভাবে বা বিচারবুদ্ধির সাথে মনের ক্রিয়াকে মুক্তচিন্তা বলে।
২) উদারভাবে ও বিচারবুদ্ধি সহকারে জ্ঞানলাভকে বলা হয় মুক্তচিন্তা।
৩)উদারভাবে নিজের বোধশক্তি তথা অনুভবশক্তিকে ব্যবহার ও উন্নত করার প্রক্রিয়াকেই মুক্তচিন্তা বলে।

ভালোকরে এবার সংজ্ঞার্থগুলো বুঝি। বোঝার পর অগ্রসর হই পরবর্তী ধাপে। পরবর্তী ধাপ হলো “মুক্তচিন্তা” সম্পর্কে আমাদের যেসব ভুল ধারণা আছে তা ত্যাগ করা। আমরা ভাবি মুক্তচিন্তা মানেই নাস্তিক্যবাদ। আসলে ব্যাপারটা ঠিক নয়। মুক্তচিন্তা মানে মুক্তভাবে চিন্তা করা। তাই আমরা সূফীবাদী, বাউল, ফকির, সহজিয়া, বৈষ্ণব, তান্ত্রিক প্রমুখ সাধক-মহাজনদেরও মুক্তচিন্তক হিসেবে ধরতে পারি, ধরাটাই উচিত। যেহেতু উদারভাবে চিন্তার দ্বারাই মুক্তচিন্তা করা যায় তাই যারা উদারভাবে চিন্তা করেন তারাই মুক্তচিন্তক বা মুক্তমনা। এখন উদারতা বলতে কি বোঝায় তা যদি পরিষ্কার না হওয়া যায় তাহলে মুক্তচিন্তার গোটা বিষয়টাই ধোঁয়াটে থেকে যাবে। উদার বলতে বোঝায় মহৎ, উচ্চ, প্রশস্ত, সঙ্কীর্ণতাশূন্য। এর বিশেষ্য করলে পাচ্ছি উদারতা। এই উদারতা থাকতে হবে মুক্তচিন্তায়।

সুতরাং মুক্তচিন্তার সাথে সম্পৃক্ত:
১) মানুষসহ সমগ্র জীবজগতের কল্যাণ ভাবনা;
২) নিজের ভেতরকার সঙ্কীর্ণতা কাটিয়ে উঠা এবং
৩) ক্রমাগত জ্ঞানার্জন করা।
আমাদের বর্তমান কর্তব্য হলো “মুক্তচিন্তা” নামক বিষয়টাকে উপলব্ধি করে এর চর্চা করা।

1 thought on “মুক্তচিন্তা মানেই নাস্তিক্যবাদ নয়”

Leave a Comment